আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি মানুষকে অগ্রগতির পথে নিয়ে গেলেও তাকে যান্ত্রিক করে তুলেছে আর তার ভুক্তভোগী আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের শিশুরা। কথায় আছে কাউকে কিছু উপদেশ দিয়ে শেখানোর থেকে উদাহরণ দিয়ে শেখানো সহজতর। আর এই ক্ষেত্রে ছোটদের জন্য রচিত নীতিমূলক গল্পের ভূমিকা অগ্রগণ্য।
গল্প পড়া ও গল্প শোনার মধ্য দিয়ে ছোটরা বিনোদনের সাথে সাথে নৈতিক মূল্যবোধগুলো হৃদয়ঙ্গম করে নেয়। তাই শিশু মনে প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ জাগানোর সবথেকে সহজ উপায় এই গল্পের মাধ্যম; যা ভবিষ্যতে তাদের দৃঢ ব্যক্তিত্ব, সৎ এবং প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
৩টি ছোটদের শিক্ষামূলক ছোট গল্প | 3 Bengali Moral Stories – Watch Online
এই পোস্টে আমরা এরকমই কিছু সেরা ছোট শিক্ষনীয় মজার গল্প শেয়ার করলাম যা বাচ্চাদের খুব ভালো লাগবে এবং ওদের জন্যে শিক্ষণীয় হবে।
১)লোভী কুকুর
একদিন একটি লোভী কুকুর একটি কসাই – এর দোকান থেকে এক টুকরো মাংস চুরি করল। তা দেখে কসাই তাঁর পিছনে তাড়া করল কিন্তু কিছুদূর পর্যন্ত গিয়ে সে তার নিজের দোকানে ফিরে এল। এদিকে কুকুরটা ভীষণ ভয়ে ছুটতে লাগল প্রাণপণে।
অনেকটা যাওয়ার পর সে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখল যে কসাইটা তার দিকে তাড়া করে আসছে কিনা। কাউকে আসতে না দেখে সে তার গতি কমিয়ে ধীরে সুস্থে হাঁটতে লাগল।কিছুক্ষণ পরে সে এসে পৌঁছল একটা ছোট্ট নদীর কাছে।
সে তখন মুখের মাংসের টুকরোটা নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে নদী পার হতে লাগল ।সেসময় নদীর পরিষ্কার জলে তার প্রতিবিম্ব ভেসে উঠতে সে সেদিকে তাকিয়ে দেখল। লোভী আর বোকা কুকুরটা নিজের প্রতিবিম্বকে মাংস মুখে অন্য একটি কুকুর মনে করল।সেই মাংসের টুকরোটাও পাওয়ার জন্য তার খুব লোভ হলো।
সে এবার অন্য কিছু চিন্তা ভাবনা না করে নদীর জলে ঝাঁপিয়ে পড়ল আর সঙ্গে সঙ্গে জলের স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল।লোভী কুকুরটা মাংসের টুকরোটার সাথে সাথে তার মূল্যবান প্রাণ টা ও হারাল।
নীতিকথা ~”অতিরিক্ত লোভ মানুষের সর্বনাশের কারণ”
২)বুদ্ধিমান কাক :
একটা কাক উড়তে উড়তে এমন একটা স্থানে এসে পৌঁছালো যেখানে জল পাওয়া খুবই দুষ্কর।অথচ পিপাসায় তার গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর কাক একটা কলসি পেল।
কিন্তু কলসির কাছে গিয়ে সে হতাশ হলো শুধু ঠোঁট বাড়িয়ে চেষ্টা করল অনেকবার জল পান করার।কিন্তু জলের নাগাল না পেয়ে কাকটি চিন্তা করতে লাগল কী করা যায়! কলসির আশেপাশে কিছু নুড়িপাথর পড়েছিল ;সেগুলো দেখতে দেখতে হঠাৎ কাকের মাথায় একটি বুদ্ধি এল।
একটি একটি করে নুড়িপাথর নিয়ে কলসির মধ্যে ফেলতে লাগল সে ।পাথর জায়গা দখল করায় জল উঠে এল কলসির মুখের কাছে। তৃষ্ণার্ত কাকের প্রাণ খুশিতে ভরে উঠল।ঠোঁট ডুবিয়ে ডুবিয়ে প্রাণ ভরে জল পান করে সে তার তৃষ্ণা মেটাল।
নীতিকথা~ “বুদ্ধি থাকলে উপায় হয়”।
৩)শিয়াল ও আঙুর ফল:
তিন দিন ধরে অনবরত বৃষ্টি হওয়ার কারণে একটি শিয়াল খাবারের খোঁজে কোথাও বেরোতে পারেনি। খিদের জ্বালায় থাকতে না পেরে শিয়ালটি বনের মধ্যে খাবারের সন্ধানে ঘুরতে লাগল ।
হঠাৎ একটি ঝোপের দিকে তার নজর পড়ল।সে দেখল ঝোপের পাশে একটি আঙুরগাছ এবং অনেক পাকা আঙুরের থোকা ঝুলছে সেখানে। খিদের জ্বালায় সেই আঙুর খেয়েই পেট ভরাবে বলে শেয়ালটি মনস্থির করল।
কিন্তু গাছের এত উপরে থাকা আঙুরের থোকা গুলির সে কীভাবে নাগাল পাবে সেই নিয়ে ভাবতে শুরু করল । কিন্তু শিয়ালটি তার কোনও উপায়ই বার করতে পারল না। অবশেষে বিফল মনোরথ হয়ে সে সেই স্থান পরিত্যাগ করল ।
ফেরার পথে সে বলতে লাগল -“আঙুর ফল টক; ওই আঙুর আমি খেতেও পারতাম না অার খেলেও আমার পেট ভরত না”।
নীতিকথা ~ নিজের অযোগ্যতা ঢাকার জন্য পরনিন্দা করা অনুচিত।


If you have any doubts, please let me know :)